চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্ডারওয়্যারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ক্যাপসুলসদৃশ স্বর্ণজাত পদার্থসহ এক ভারতীয় যাত্রীকে আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে এয়ার অ্যারাবিয়ার একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছানোর পর ওই যাত্রীকে আটক করা হয়।
আটক যাত্রীর নাম থামিম আনসারি। তিনি ভারতের নাগরিক বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
সিআইআইডি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের একটি দল শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থান নেয়। সকাল ৬টা ৫৮ মিনিটে এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইট নম্বর জি৯-৫২৬ যোগে শারজাহ থেকে আগত যাত্রী থামিম আনসারি বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রম করার পর গোয়েন্দা দল তাঁকে শনাক্ত করে।
পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তাঁর আন্ডারওয়্যারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ক্যাপসুলসদৃশ আকৃতির স্বর্ণজাত পদার্থ পাওয়া যায়। স্বর্ণ চোরাচালানে এমন অভিনব কৌশল ব্যবহারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
প্রাথমিকভাবে প্যাকিং সামগ্রীসহ উদ্ধারকৃত বস্তুর মোট ওজন ৪৫৫ গ্রাম পাওয়া গেছে। তবে প্যাকিং সামগ্রী বাদ দিয়ে প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ ও বিশুদ্ধতা নির্ধারণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ জন্য স্বর্ণকারের সহায়তা নেওয়া হয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা হতে পারে। প্রকৃত ওজন ও বিশুদ্ধতা নির্ধারণের পর স্বর্ণের সঠিক মূল্য জানা যাবে।
এ ঘটনায় কাস্টমস আইনের আওতায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি আটক যাত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
সিআইআইডি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্বর্ণ ও অন্যান্য পণ্যের চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তৎপরতা ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

