প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আমদানি করা পণ্য খালাসের ঘটনায় চট্টগ্রাম কাস্টমসের সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তাসহ দুজনকে চার বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের আত্মসাৎকৃত অর্থের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা প্রাণবন্ধু বিকাশ পাল প্রকাশ পি বি পাল এবং বন্দর এলাকার কিংশিপ শিপিং এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মির্জা মো. আহসানুজ্জামান। এ মামলার অপর আসামি সাইফুল ইসলামকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দিয়েছেন আদালত।
দুদকের পিপি মুহম্মদ কবির হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া কাগজপত্র দাখিল করে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা পণ্য খালাস করেন। এতে ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৬২ টাকা কাস্টমস ডিউটি ফাঁকি দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়।
মামলার রায় অনুযায়ী, সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা পি বি পালকে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় তিন বছর এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দুই ধারায় মোট চার বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে আত্মসাৎকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮৩২ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী মির্জা মো. আহসানুজ্জামানকে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৪, ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় এক বছর করে মোট চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকেও আত্মসাৎকৃত অর্থের ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৮৩২ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে।
দুদকের পিপি জানান, এ ঘটনায় ২০১৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

