বেনাপোল কাস্টমস হাউজের ৪১ নম্বর শেডে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরমানকে ডেকে এনে লাথি ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে যুগ্ম-কমিশনার অব কাস্টমস মোঃ শরফুদ্দিন মিঞার বিরুদ্ধে। একজন সহকর্মীর মাধ্যমে আরমানকে ৪১ নম্বর শেডে ডেকে নেওয়ার পর সেখানে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বেনাপোল কাস্টমস হাউজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরমানকে একজন সহকর্মীর মাধ্যমে যুগ্ম-কমিশনার মোঃ শরফুদ্দিন মিঞার নির্দেশে ৪১ নম্বর শেডে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে লাথি ও মারধর করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে কী কারণে তাকে ৪১ নম্বর শেডে ডেকে নেওয়া হয়েছিল এবং ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে পারেননি তারা।
ঘটনার পর বিষয়টি বেনাপোল কাস্টমস হাউজের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করছেন অনেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অধস্তন কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে বলে তারা জানেন। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হওয়ায় চাকরিসংক্রান্ত জটিলতার আশঙ্কায় এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইছেন না তারা।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি যাতে প্রকাশ্যে না আসে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়া যায়, সে জন্য বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে। এ কারণে ঘটনার বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এক ধরনের নীরবতা বিরাজ করছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে চাইছেন না।”
এদিকে সরকারি দপ্তরে একজন অধস্তন কর্মকর্তাকে ৪১ নম্বর শেডে ডেকে এনে মারধরের অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে ৪১ নম্বর শেডের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তার সহকর্মীরা। তাদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে ওই সময় সেখানে কী ঘটেছিল, তা স্পষ্ট হওয়া সম্ভব।
তবে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আরমানকে ৪১ নম্বর শেডে ডেকে এনে মারধরের অভিযোগের বিষয়ে যুগ্ম-কমিশনার অব কাস্টমস মোঃ শরফুদ্দিন মিঞার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

