NBR News & Views

বাস উল্টে সড়কে ঝরল কাস্টমস কর্মকর্তার প্রাণ

ফেনী প্রতিনিধি
বাস উল্টে সড়কে ঝরল কাস্টমস কর্মকর্তার প্রাণ

ফেনীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে মো. আব্দুল আলীম (৩৬) নামে এক সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তার মৃত্যু হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপোল স্টারলাইন ফিলিং স্টেশন-সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বাসের আরও ছয় যাত্রী আহত হয়েছেন।

নিহত আব্দুল আলীম সিলেট কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট এলাকায়। তিনি ওই এলাকার আবদুল কাদেরের একমাত্র ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে আব্দুল আলীম অবিবাহিত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে সিডিএম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ফেনীর মহিপাল থেকে চট্টগ্রামের বারইয়ারহাটের উদ্দেশে যাচ্ছিল। বাসটি লালপোল এলাকায় পৌঁছালে সামনে থাকা একটি অজ্ঞাত ট্রাক হঠাৎ ব্রেক করে। এতে পেছনে থাকা বাসটির চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। একপর্যায়ে বাসটি সড়কের ডান পাশের বিভাজকের ওপর উঠে উল্টে যায়।

দুর্ঘটনায় বাসের কয়েকজন যাত্রী আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল আলীমকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আরও ছয়জন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বাড়ি ফিরে গেছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

নিহতের খালাতো ভাই আরিফ জানান, ছুটিতে সিলেট থেকে ট্রেনে করে ফেনীতে এসেছিলেন আব্দুল আলীম। পরে মহিপাল থেকে সিডিএম পরিবহনের বাসে করে বারইয়ারহাটের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু বাড়ি পৌঁছানোর আগেই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশ প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মহিপাল হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক কবির হোসেন বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। নিহতের স্বজনরা হাসপাতালে এসেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আব্দুল আলীমের আকস্মিক মৃত্যুতে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মীরা তাঁর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।