বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। ম্যাচটিকে ঘিরে ফুটবল উন্মাদনার পাশাপাশি আবারও সামনে এসেছে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড (মালভিনাস) যুদ্ধের স্মৃতি। তবে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি জোর দিয়ে বলেছেন, এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ, এর সঙ্গে অন্য কোনো বিষয় জড়ানোর প্রয়োজন নেই।
সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে ফকল্যান্ড যুদ্ধের প্রসঙ্গ উঠতেই স্কালোনি প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই বলেন, "এটি একটি ফুটবল ম্যাচ। এর বাইরে অন্য কিছু খোঁজার প্রয়োজন নেই।"
যদিও কোচ বিষয়টিকে খেলাধুলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে চান, বাস্তবে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আবেগে যুদ্ধের স্মৃতি এখনো প্রবল। যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অবস্থানরত অনেক সমর্থকই বলছেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি তাদের কাছে শুধু ফুটবল নয়, ইতিহাসেরও অংশ।
২২ বছর বয়সী সমর্থক মাতিয়াস মারিন জানান, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড প্রতিপক্ষ হওয়ার খবর জানার পরই তারা সফরের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তার ভাষায়, "ফাইনালে উঠি বা না উঠি, এই ম্যাচ মাঠে বসে দেখতেই হবে।"
১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধে আর্জেন্টিনার শত শত সেনা নিহত হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের উত্তেজনা ফুটবল মাঠেও প্রতিফলিত হয়ে আসছে। বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জনপ্রিয় গানেও ফকল্যান্ড, দিয়েগো ম্যারাডোনা এবং লিওনেল মেসির নাম উঠে আসে।
তবে সব সমর্থক একইভাবে বিষয়টি দেখছেন না। অনেকের মতে, ইতিহাসের গুরুত্ব থাকলেও ফুটবলকে রাজনীতি থেকে আলাদা রাখা উচিত। সমর্থক আলেক্সিস মোরালেস বলেন, "এটি শুধুই একটি খেলা। এতে অতীত বদলাবে না, ফকল্যান্ডও ফিরে আসবে না।"
এদিকে ম্যাচকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সম্প্রতি আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অনেক আর্জেন্টাইন সমর্থক নিরাপত্তার কারণে প্রকাশ্যে জাতীয় দলের জার্সি পরছেন না। তাদের দাবি, ম্যারাডোনার বিখ্যাত 'হ্যান্ড অব গড' গোলের স্মৃতি এখনো ইংলিশ সমর্থকদের মধ্যে তীব্র আবেগ সৃষ্টি করে।
এবারের ম্যাচটি লিওনেল মেসির জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ৩৯ বছর বয়সে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামতে যাচ্ছেন তিনি। অনেক সমর্থকের বিশ্বাস, ইংল্যান্ডকে হারাতে পারলে মেসি ম্যারাডোনার মতোই আর্জেন্টাইন ফুটবল ইতিহাসে আরও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে যাবেন।

