NBR News & Views

চট্টগ্রাম কাস্টমসের দুই নিলামে ১৩৩ লট পণ্য বিক্রির অনুমোদন, খালাসে ১৫ কার্যদিবস

চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম কাস্টমসের দুই নিলামে ১৩৩ লট পণ্য বিক্রির অনুমোদন, খালাসে ১৫ কার্যদিবস

চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নিয়মিত ও বিশেষ নিলামে মোট ১৩৩টি লটের পণ্য বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত লটের মধ্যে নিয়মিত নিলামে ৪৫টি এবং বিশেষ নিলামে ৮৮টি লট রয়েছে। এসব পণ্য খালাস নিতে ক্রেতাদের বিক্রয় আদেশ প্রকাশের তারিখ থেকে ১৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকেলে পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিলামে পণ্য বিক্রির অনুমোদনের তথ্য জানানো হয়। এর আগে ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নিলাম কমিটির সভার সুপারিশের ভিত্তিতে কমিশনারের অনুমোদনক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়মিত নিলামে মোট ১০৩টি লটের বিপরীতে ১৪৮টি কনটেইনারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি লটের ৭৩টি কনটেইনার বিক্রির অনুমোদন পেয়েছে। একটি লট বাতিল করা হয়েছে, দুটি লটের নয়টি কনটেইনারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে এবং ৪৬টি লট অননুমোদিত রয়েছে। এছাড়া নয়টি লটের ১৩টি কনটেইনারের বিপরীতে কোনো দরপ্রস্তাব পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, বিশেষ নিলামে ৯২টি লটের বিপরীতে ২৭৮টি কনটেইনারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি লটের ২৭৪টি কনটেইনার বিক্রির অনুমোদন পেয়েছে। বাকি একটি লটের বিষয়ে সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে এবং তিনটি লট বাতিল করা হয়েছে।

বিক্রয় আদেশ অনুযায়ী, অনুমোদিত লটের ক্রেতাদের আদেশ প্রকাশের তারিখ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে নির্ধারিত বিক্রয়মূল্য, প্রযোজ্য আগাম আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর পরিশোধ করে পণ্য খালাস নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস করলে গুদাম ভাড়া দিতে হবে না।

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস করা সম্ভব না হলে কারণ উল্লেখ করে কমিশনারের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কমিশনার সর্বোচ্চ সাত দিন অতিরিক্ত সময় দিতে পারবেন। বিশেষ পরিস্থিতিতে রাসায়নিক পরীক্ষা বা অন্যান্য শর্ত পূরণের প্রয়োজন হলে যুক্তিসংগত অতিরিক্ত সময় দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্ধারিত ও বর্ধিত সময়ের মধ্যেও পণ্য খালাস না করলে বিধি অনুযায়ী গুদাম ভাড়া আদায় করা হবে। পাশাপাশি বিক্রির অনুমোদন বাতিল এবং জামানত বাজেয়াপ্ত করার বিধান রয়েছে।

পণ্য খালাসের আগে আমদানি নীতিমালা ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রয়োজনে রাসায়নিক পরীক্ষার মাধ্যমে পণ্যের গুণগত মান ও ব্যবহার উপযোগিতা যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে পণ্যের বিবরণ ও ওজন নিশ্চিত করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পণ্যের সম্পূর্ণ বিক্রয়মূল্য চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের কোষাগারে জমা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে সরবরাহ আদেশে সংশ্লিষ্ট শাখার প্রত্যয়ন নিতে হবে। সরবরাহ আদেশ গ্রহণের আগে পণ্যসংক্রান্ত শর্ত, নিষেধাজ্ঞা, মামলা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করতে হবে।

পণ্য সরবরাহের সময় কোনো অসংগতি দেখা দিলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে কমিশনার যেকোনো পণ্যের বিক্রির অনুমোদন দেওয়া, স্থগিত রাখা বা আংশিক বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

সহকারী কমিশনার নাজমুল হোসেন বলেন, নিলামের মাধ্যমে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করা হচ্ছে। অনুমোদিত লটের ক্রেতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মূল্য পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করে পণ্য খালাস নিতে হবে।