NBR News & Views

গভীর রাতে কাস্টমসের অভিযান, ৯ দিনেও প্রকাশ হয়নি তথ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

উদ্ধার কী, জব্দ কত—নীরবতায় প্রশ্নের মুখে বগুড়া কাস্টমস

গভীর রাতে কাস্টমসের অভিযান, ৯ দিনেও প্রকাশ হয়নি তথ্য

গভীর রাতে পরিচালিত কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের একটি অভিযানের ৯ দিন পার হলেও এখনো প্রকাশ করা হয়নি অভিযানের ফলাফল। কী উদ্ধার হয়েছে, কতটুকু পণ্য জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নীরব রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের বিরুদ্ধে।

গত ৯ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যে বগুড়ার একটি কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ। অভিযানে বগুড়া সদর থানা পুলিশ সহযোগিতা করে। তবে অভিযানের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযানের পর কী পরিমাণ পণ্য জব্দ হয়েছে, কোনো অনিয়ম বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

এর আগে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি একই কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট জব্দ করেছিল বগুড়া সদর থানা পুলিশ। ওই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। ফলে একই প্রতিষ্ঠানে পুনরায় কাস্টমসের অভিযান পরিচালনার পরও তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

অভিযানের দিন কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের উপ কমিশনার ও বিভাগীয় কর্মকর্তা শামীম উল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ১০ জুন প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। কিন্তু নির্ধারিত দিনে কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।

পরদিন ১১ জুন কাস্টমস কার্যালয়ে তথ্য জানতে গেলে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা তাজিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি বা অন্য কোনো কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী বলেন, পুলিশ অভিযানে সহযোগিতা করেছে। তবে এ ঘটনায় থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

পরে উপ কমিশনার শামীম উল আলম তাঁর আগের বক্তব্য থেকে সরে এসে জানান, অভিযানের বিষয়ে কোনো তথ্য বগুড়া কার্যালয় থেকে নয়, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশ করা হবে।

অন্যদিকে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সরকারি অভিযানের তথ্য জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট হওয়ায় তা প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। অভিযানে কী উদ্ধার হয়েছে, কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কেন এতদিনেও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে আগ্রহী স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্টরা।

তথ্য প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতা, দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নীরবতা এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে বগুড়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ। অভিযানের প্রকৃত তথ্য দ্রুত প্রকাশের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।