যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ ‘সম্ভবত’ আবারও শুরু হতে পারে বলে মন্তব্য করেছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। শনিবার (২ মে ২০২৬) ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে ইরানের সামরিক সদর দপ্তরের উপপ্রধান মোহাম্মদ জাফর আসাদি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো চুক্তি বা সমঝোতার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নয়—এটি ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বক্তব্য মূলত গণমাধ্যমনির্ভর এবং তাদের উদ্দেশ্য তেলের দামের পতন ঠেকানো ও নিজেদের সৃষ্ট জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসা।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো নতুন দুঃসাহসিকতা বা পদক্ষেপের জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হন। পাশাপাশি কয়েক হাজার বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হন।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ওই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। প্রায় ছয় সপ্তাহ সংঘাত চলার পর ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। যুদ্ধবিরতির সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাকযুদ্ধ চললেও সরাসরি হামলা থেকে বিরত থাকে তারা।
পরবর্তীতে ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার লক্ষ্যে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।
এরপর ইরান সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা সংলাপের জন্য তিন ধাপের একটি প্রস্তাব দেয়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানা গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যার বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা

