NBR News & Views

করদাতার অর্থ অপচয় নয়, প্রয়োজনীয় খাতেই ব্যয় করতে হবে : অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম ব্যুরো
করদাতার অর্থ অপচয় নয়, প্রয়োজনীয় খাতেই ব্যয় করতে হবে : অর্থমন্ত্রী

করদাতাদের অর্থ অপচয় না করে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, সরকারের পক্ষে এককভাবে অর্থনীতির সব খাত পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই করদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম নগরের রেডিসন ব্লুতে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর পানি সরবরাহ সেবার মান উন্নয়নে নতুন পিপিপি মডেল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আয়োজিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ উদ্যোগে বাংলাদেশে অবস্থিত নেদারল্যান্ডস দূতাবাস আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগে সবকিছু সরকার করত। এখন সরকারের পক্ষে এত কাজ এককভাবে করা সম্ভব নয়। করদাতাদের টাকা সঠিক জায়গায় খরচ করতে হয়। এজন্য পুরো অর্থনৈতিক মডেলে অংশীদারত্ব প্রয়োগ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু সরকার নয়, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকেও বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। পিপিপি মডেলে সরকার অর্থ দেবে, বেসরকারি খাতও অর্থ দেবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এনজিওগুলো সহযোগিতা করবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অংশীদারত্বের মাধ্যমে যে মডেল দাঁড় করানো হচ্ছে, সেটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি হবে। একইসঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর এর রক্ষণাবেক্ষণও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রামের পানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নগরের পানির সংকট জনগণের জন্য বড় দুর্ভোগ। নির্বাচিত দুটি এলাকায় প্রায় পানি নেই বললেই চলে। জনগণের কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব। এটিকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু করা হয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে হবে না, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়েও সরকার কাজ করছে। বর্ষা এলেই নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার সমস্যায় পড়তে হয়। এ সমস্যা সমাধানে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশটির খালগুলোও একসময় ময়লা-আবর্জনায় ভরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরে সেগুলো সংস্কার করে এখন পানি পরিবহন, মানুষের যাতায়াত এমনকি পণ্য পরিবহনের জন্যও ব্যবহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামেও এ ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ও পানি নিষ্কাশনের পাশাপাশি চট্টগ্রামের জলপথগুলোকে কীভাবে পণ্য পরিবহনে ব্যবহার করা যায়, সেই সম্ভাবনাও কাজে লাগাতে চায় সরকার। এতে চট্টগ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে অবস্থিত নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ও বাণিজ্য এবং উন্নয়ন বিভাগের প্রধান ইয়ানা ভ্যান ডার লিন্ডেন, চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম, ম্যাক্স ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. এটিএম তারিকুল ইসলাম এবং ম্যাক্স সোশ্যাল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়ামিন ফারুকসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠান তিনটি যৌথভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের জন্য একটি উদ্ভাবনী সরকারি-বেসরকারি পানি সরবরাহ মডেল অনুসন্ধান ও পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়ন করবে।