কর ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ই-রিটার্ন সুবিধা চালু হলেও মাঠপর্যায়ে তা এক চরম বিশৃঙ্খলার মুখে পড়েছে। কোনো আইন-কানুন বা বিধিমালা না জেনেই কম্পিউটার কম্পোজের দোকানদারেরা অপেশাদার ও অসংলগ্নভাবে আয়কর রিটার্ন দাখিল করে যাচ্ছেন। প্রচলিত নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এই অনভিজ্ঞ পন্থায় রিটার্ন দাখিলের যে বেহাল দশা তৈরি হচ্ছে, এই দায়ভার শেষ পর্যন্ত কে নেবে?
অনেক করদাতা মনে করেন, এসব দোকানের চালকেরা বুঝি এ বিষয়ে পারদর্শী; তার ওপর খরচও কম। ফলে সাশ্রয়ের কথা ভেবে সাধারণ করদাতারা পেশাদারদের কাছে না গিয়ে এসব দোকানেই ছোটেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের প্রস্তুত করা রিটার্ন দেখে কর আইনজীবী ও কর কর্মকর্তারা রীতিমতো হতবাক হয়ে যান। অসচেতনতার কারণে সাধারণ করদাতারা দিনদিন বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। সচেতন নাগরিকদের মতে, অবিলম্বে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে সাধারণ কম্পিউটার কম্পোজের দোকান থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করা প্রয়োজন।
শুধু রিটার্ন দাখিলই নয়, ই-টিআইএন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সঠিক কর সার্কেল নির্বাচন, নামের বানান বা তথ্যের ভুলসহ নানাবিধ ত্রুটি অহরহ ঘটছে—যেটিকে এক কথায় 'সস্তার বারো অবস্থা' বলা চলে। আয়কর পরিভাষাকে বিকৃত করে 'টিআইএন সনদ'-কে "টিন সার্টিফিকেট" কিংবা 'ই-রিটার্ন'-কে "জিরো রিটার্ন" আখ্যা দেওয়ার পুরো কৃতিত্বই হয়তো এই শ্রেণিকে দেওয়া যায়!
কম্পিউটার দোকানগুলোর মাধ্যমে কত হাজার হাজার রিটার্ন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে, তার সঠিক সমীক্ষা করাও এখন দুরূহ। পেশাদার হিসাব বা অ্যাকাউন্টস বজায় রাখা তো দূরের কথা; সামান্য চোখ মেললেই দেখা যায় অযৌক্তিক জিরো রিটার্ন এবং আইটি-১০বি ফর্মে সম্পদের অস্বাভাবিক বিয়োগাত্মক (মাইনাস) ফিগার। আয়কর আইনের কত ধারায় আর কত তফসিলে যে কী সব মনগড়া তথ্য লেখা হচ্ছে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আয়কর আইনকে পুরোপুরি তোয়াক্কা না করে তৈরি করা এসব রিটার্নের কারণে করদাতাদের ব্যক্তিগত আয়কর প্রোফাইলের বারোটা বাজছে। সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলো—সব জেনেশুনেও বিষয়টি যেন কর্তৃপক্ষের কাছে অজানা রয়ে যাচ্ছে। এই অনিয়ম দেখারও কেউ নেই, প্রতিবাদেরও কেউ নেই।
লেখক: পলাশ কুণ্ডু এলএল.বি এমবিএ, আয়কর আইনজীবী। সদস্য: ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন সৈয়দপুর ও জেলা ট্যাক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশন, নীলফামারী; কর অঞ্চল - রংপুর।
ই-মেইল : [email protected]
✆ 01737341212

