দুর্নীতির মামলার তদন্তের স্বার্থে সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়াসহ তিন জনের আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৪ মে ২০২৬) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর পৃথক তিন আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়। অন্য দুই জন হলেন কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেটের সাবেক সহকারী কমিশনার ভূইয়া মফিজুর রহমান এবং দোহার থানার সাবেক ওসি মোস্তফা কামালের স্ত্রী খন্দকার শামীমা হাসান।
দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম আদালতে এসব আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থপাচারের মাধ্যমে ২০০৯–১০ থেকে ২০২৩–২৪ করবর্ষ পর্যন্ত ১ কোটি ৮২ লাখ ৫৫ হাজার ২৬১ টাকার বৈধ আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি তার ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৫১০ কোটি ৩৭ লাখ ৩১ হাজার ৯৩৫ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগও তদন্তাধীন।
একইভাবে ভূইয়া মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের তথ্য গোপন, মিথ্যা সম্পদ বিবরণী দাখিল এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১ কোটি ২১ লাখ ৭২ হাজার ৫৫৯ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
অপরদিকে খন্দকার শামীমা হাসানের বিরুদ্ধে তার স্বামীর ক্ষমতার অপব্যবহার ও পারস্পরিক যোগসাজশে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১ কোটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৭ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুদক।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, মামলাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট তিন জনের নামে থাকা মূল আয়কর নথির স্থায়ী অংশ ও বিবিধ অংশসহ যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করা প্রয়োজন। আদালত তা আমলে নিয়ে এই আদেশ দেন।

