রাজধানীর মিরপুরে নকল সিগারেটের মোড়ক তৈরির একটি অবৈধ কারখানার সন্ধান পেয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। শনিবার মিরপুর-১-এর গোড়ান চটবাড়ি এলাকায় ‘কৃষিবিদ সিড লিমিটেড-সিড প্রসেসিং সেন্টার’-এ অভিযান চালিয়ে কারখানাটির সন্ধান পাওয়া যায়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি) এবং র্যাব-৪ যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। সূত্র জানায়, ওই কারখানায় দীর্ঘদিন ধরে ৮ থেকে ১০টি ব্র্যান্ডের নকল সিগারেটের মোড়ক তৈরি করা হতো।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের কাস্টমস গোয়েন্দার অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহমেদ বলেন, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশের স্বীকৃত সিগারেট উৎপাদনকারী কোনো প্রতিষ্ঠানের মোড়ক তৈরির চুক্তি নেই। অথচ কারখানাটিতে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর জনপ্রিয় ব্র্যান্ড বেনসন, স্টার ও ডার্বির নকল মোড়ক পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, এ কারখানায় নকল সিগারেট উৎপাদনের তথ্যও ছিল। তবে অভিযানের সময় সিগারেট তৈরির মেশিন সরিয়ে ফেলার আলামত পাওয়া গেছে। নকল মোড়ক ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরির মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রেজভী আহমেদ আরও বলেন, ‘ইউনিক টোব্যাকো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে এ নামে কোনো সিগারেট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য নেই। ফলে প্রতিষ্ঠানটি নকল সিগারেট উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।
কাস্টমস গোয়েন্দার সহকারী পরিচালক কাজী আল মাসুম জানান, কারখানা থেকে বিপুল পরিমাণ তৈরি ও অর্ধপ্রস্তুত নকল সিগারেট, সিগারেট তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল, বিশ্বখ্যাত ও স্থানীয় ব্র্যান্ডের নকল প্যাকেজিং সামগ্রী এবং আধুনিক উৎপাদন যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব ফাঁকির উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বিভিন্ন নথি ও আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা সব আলামত, প্রস্তুত করা সিগারেটের পরিমাণ, কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির সঠিক তালিকা তৈরির কাজ চলছে। যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি ও প্রতারণার অভিযোগে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

