রপ্তানিমুখী শিল্প খাতের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন জটিলতা দূর করে ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও সহজ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বন্ড ব্যবস্থাপনা ও বাণিজ্য সুবিধা সম্প্রসারণে ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
রোববার (১৪ জুন) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে আয়োজিত ‘অর্থবিল ২০২৬-২৭-এর বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. আবদুর রহমান খান বলেন, দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ সুবিধার পরিধি বৃদ্ধি। এতদিন যেসব রপ্তানিকারকের নিজস্ব বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ছিল না, তারা প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতেন। নতুন বাজেটে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন থেকে বন্ড সুবিধাবিহীন রপ্তানিকারকরাও বন্ড সুবিধাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারবেন। এতে স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়বে এবং ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, কন্টিনিউয়াস বন্ড সুবিধা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তঃকমিশনারেট পর্যায়ে কাঁচামাল সরবরাহের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। আগে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক অনুমোদনের প্রয়োজন হতো, যা ব্যবসায়ীদের জন্য সময়সাপেক্ষ ও জটিল ছিল।
তিনি আরও বলেন, পূর্বে নির্দিষ্ট কিছু শিল্প খাতের মধ্যে বন্ড সুবিধা সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন যে কোনো খাতের যোগ্য উদ্যোক্তা আবেদন করে বন্ড লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এর ফলে নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য রপ্তানি বাণিজ্যে অংশগ্রহণের পথ আরও সহজ হবে।
যেসব ব্যবসায়ী বন্ড লাইসেন্স নিতে আগ্রহী নন, তাদের জন্যও নতুন সুযোগ রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হবে। এতে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং শিল্প খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
অথরাইজড ইকোনমিক অপারেটর সুবিধা প্রসঙ্গে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এ সুবিধার আওতায় ব্যবসায়ীরা দ্রুত পণ্য খালাস ও সহজ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পান। তবে অডিট রিপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার বাইরে ছিল। নতুন ব্যবস্থায় এ ক্ষেত্রে শিথিলতা আনা হয়েছে, যাতে আরও বেশি ব্যবসায়ী সুবিধাটি গ্রহণ করতে পারেন।
তিনি বলেন, সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপগুলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আকতার। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বিতীয় সচিব (মূল্য সংযোজন কর) বদরউদ্দিন মুন্সী, কাস্টমস নীতির প্রথম সচিব তারেক হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

