একই আন্দোলন ও একই সময়ের ঘটনাপ্রবাহে প্রশাসনিক ব্যবস্থার শিকার হয়ে বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট এবং আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি উঠেছে। একই ঘটনায় এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী সাধারণ ক্ষমা ও পুনর্বহালের সুযোগ পেলেও অন্যদের বাধ্যতামূলক অবসরে রাখাকে বৈষম্যমূলক উল্লেখ করে মানবিক ও ন্যায়সংগত বিবেচনায় তাঁদের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ঐক্য পরিষদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একই সময়ে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে অনেককে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সাধারণ ক্ষমা প্রদান এবং চাকরিতে পূর্ণবহালসহ বেতন, গ্রেডেশন ও অন্যান্য প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তাঁদের প্রশ্ন, একই আন্দোলন ও একই সময়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন একটি অংশকে ক্ষমা করে চাকরিতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন একই ঘটনায় বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট এবং আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও কেন একই মানবিক ও ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না?
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তাঁদের বিষয়টি রাষ্ট্রপতির কাছে রিভিউ করা রয়েছে। একই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি অংশের প্রতি রাষ্ট্র যখন ক্ষমা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তখন একই সময়ে একই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়টিও সমতা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার আলোকে পুনর্বিবেচনা করা জরুরি।
তাঁরা বলেন, তাঁরা সরকারের বিরুদ্ধে নন এবং কোনো ধরনের সংঘাত বা বিরোধ সৃষ্টি করতে চান না। রাষ্ট্রের প্রতি তাঁদের শ্রদ্ধা ও আনুগত্য অটুট রয়েছে। তাঁদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমার আওতায় এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে যাঁরা পুনর্বহালের সুযোগ পেয়েছেন, সেই মানবিক ও ন্যায়সংগত দৃষ্টিভঙ্গি একই আন্দোলনের ঘটনায় বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট এবং আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হবে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, চাকরি হারানোর কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক, সামাজিক ও পারিবারিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নিম্নপদে কর্মরত ছিলেন, যাঁদের পরিবারের একমাত্র বা প্রধান জীবিকা ছিল চাকরির আয়।
তাঁদের মতে, পদমর্যাদা ছোট বা বড়—যাই হোক না কেন, একই ঘটনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রত্যেকের বিষয় একই মানবিক ও ন্যায়সংগত মানদণ্ডে বিবেচনা করা উচিত। একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর চাকরি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত জীবিকার বিষয় নয়; এর সঙ্গে তাঁর পরিবার, সন্তানদের ভবিষ্যৎ, সামাজিক মর্যাদা এবং দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা জড়িত।
এ অবস্থায় বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁদের চাকরিতে পূর্ণ পুনর্বহাল, চাকরিকাল গণনা, বেতন-ভাতা, গ্রেডেশনসহ আইন ও বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন।
তাঁদের বক্তব্য, একই আন্দোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ক্ষমা করে চাকরিতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন একই প্রেক্ষাপটে বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্তদেরও পুনরায় চাকরিতে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হলে তা হবে রাষ্ট্রের একটি মানবিক, ন্যায়সংগত ও সমতাভিত্তিক সিদ্ধান্ত।
তাঁরা আরও বলেন, এটি কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা আদায়ের দাবি নয়; বরং একই ঘটনার ক্ষেত্রে সমান আচরণ, ন্যায়বিচার ও মানবিক বিবেচনার দাবি।
ভুক্তভোগীরা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তাঁদের বিষয়টি সদয়ভাবে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাঁদের প্রত্যাশা, ইতোমধ্যে যাঁদের ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ক্ষমা ও পুনর্বহলের মাধ্যমে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, একই আন্দোলনের ঘটনায় বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট এবং আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ সুযোগ দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগীদের একজন বলেন, “আমরা সরকারের বিরুদ্ধে নই। রাষ্ট্রের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা ও আনুগত্য অটুট। আমরা শুধু চাই, একই ঘটনার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিও একই মানবিক ও ন্যায়সংগত দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করা হোক।”
তাঁদের দাবি, রাষ্ট্রপতির ক্ষমার বিধান এবং সরকারের মানবিক নীতির আলোকে বাধ্যতামূলক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়টি দ্রুত পর্যালোচনা করে তাঁদের পুনরায় চাকরিতে যোগদানের সুযোগ দেওয়া হোক।
ভুক্তভোগীরা মনে করেন, রাষ্ট্রের এমন একটি সিদ্ধান্ত শুধু তাঁদের কর্মজীবন ফিরিয়ে দেবে না, দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তায় থাকা তাঁদের পরিবারগুলোর মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার করবে।
তাঁদের একটাই প্রত্যাশা—একই আন্দোলন, একই সময় ও একই ঘটনার প্রেক্ষাপটে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সবার জন্য ন্যায়, সমতা, মানবিকতা ও প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করা।

