রাজধানীর মোহাম্মদপুরে দুটি আবাসিক ভবনে অভিযান চালিয়ে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ শলাকা বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, মূল্য সংযোজন কর, ঢাকা। জব্দ করা সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩৫ লাখ টাকা। এতে মূসক, সম্পূরক শুল্ক ও সারচার্জ বাবদ সরকারের প্রায় ৩০ লাখ টাকা রাজস্ব জড়িত।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অধিদপ্তরের দুটি প্রিভেন্টিভ টিম মোহাম্মদপুরের দুটি আবাসিক ভবনে একযোগে অভিযান চালিয়ে এসব সিগারেট জব্দ করে।
অভিযান পরিচালিত হয় শ্যামলীর পিসি কালচার হাউজিংয়ের বাড়ি-১৪০, রোড-৫ এবং মোহাম্মদপুরের জয়েন্ট কোয়ার্টারের ৩৭/৮, ব্লক-এফ এলাকায়। সকাল ১১টার দিকে গোয়েন্দা দল দুটি ভবনে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। এ সময় গুদাম দুটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ভবনের দারোয়ানের সহযোগিতায় গোপন গুদামের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
গুদামের মালিককে ঘটনাস্থলে না পাওয়ায় ভবন মালিকের সহযোগিতা নেওয়া হয়। চাবি সংগ্রহ করা সম্ভব না হওয়ায় বাইরে থেকে মিস্ত্রি এনে তালা ভেঙে গুদামে প্রবেশ করে গোয়েন্দা দল। পরে বস্তাভর্তি অবস্থায় বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট পাওয়া যায়।
একটি গুদাম থেকে প্যাট্রন ন্যানো ২ লাখ ২ হাজার ২০০ শলাকা, মন্ড স্ট্রবেরি ১০ হাজার, মন্ড সিলভার ১৬ হাজার ৬০০ এবং ওরিস ন্যানো ২৬ হাজার ৪০০ শলাকা উদ্ধার করা হয়। অপর গুদাম থেকে অরবিট, মন্ড, প্যাট্রন ও ওরিস ব্র্যান্ডের ৬১ হাজার ২০০ শলাকা সিগারেট জব্দ করা হয়।
গোয়েন্দা দল স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, দুটি গুদামের ঠিকানা আলাদা হলেও প্রকৃত মালিক একই ব্যক্তি। তিনি ডিলারশিপ ব্যবসার কথা বলে গুদাম দুটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে কী ধরনের পণ্যের ব্যবসা করা হয়, তা ভবন মালিক জানতেন না বলে দাবি করেন।
ভবনের দারোয়ানের তথ্য অনুযায়ী, দিনের অধিকাংশ সময় গুদাম বন্ধ থাকত। সাধারণত রাতের দিকে সেখানে মালামাল আনা হতো এবং পরে পার্সেলের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকায় কুরিয়ারে পাঠানো হতো। গুদামের ভেতরে কী ধরনের পণ্য রাখা হতো, তা তিনি জানতেন না বলেও জানান।
এনবিআর জানিয়েছে, রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট চোরাচালান চক্রকে শনাক্ত ও হাতেনাতে ধরার প্রচেষ্টা চলছে। চক্রটি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধভাবে বিদেশি নকল সিগারেট সরবরাহ করছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গেছে।
জব্দ করা সিগারেটগুলো অবৈধ হওয়ায় নিকটস্থ কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়া হয়েছে। পূর্বানুমতি ও বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত পদ্ধতি ছাড়া বিদেশি সিগারেট আমদানি করা যায় না। জব্দ সিগারেট পরবর্তী সময়ে বিধি অনুযায়ী ধ্বংস করা হবে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।
সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা, তামাকজাত পণ্যের অবৈধ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ প্রতিরোধ এবং জাল স্ট্যাম্প ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারের মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে দেশব্যাপী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে এনবিআর।

