চলতি অর্থবছরের (২০২৬-২৭) প্রথম মাস জুলাইয়ে আয়কর খাতে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৭ শতাংশ পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। জুলাইয়ে আয়কর খাতে ৯ হাজার ১৩১ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭ হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এক হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা কম আদায় হয়েছে। এর মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে ঢাকার কর অঞ্চল-৪।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৃহৎ করদাতা ইউনিটসহ ৫০টি কর অঞ্চলের জুলাই মাসের রাজস্ব আদায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকার কর অঞ্চল-৪ জুলাই মাসে ৪২৫ কোটি ২০ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় করতে পেরেছে মাত্র ৯৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় এ অঞ্চলে প্রায় ৩২৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা কম আদায় হয়েছে।
তবে গত অর্থবছরের জুলাই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে কর অঞ্চল-৪-এর আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে এ অঞ্চল থেকে আদায় হয়েছিল মাত্র ৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে আদায়ের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশ।
আলোচ্য জুলাই মাসে ঢাকার কর অঞ্চল-৪-এর কমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন সেলিনা সুলতানা। গত ২০ আগস্ট তাঁকে এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো নারী কর্মকর্তা সিআইসির মহাপরিচালকের দায়িত্ব পেয়েছেন।
সূত্র জানায়, ঢাকার কর অঞ্চল-৪-এ জুলাই পর্যন্ত বিতর্কিত বকেয়ার পরিমাণ ছিল এক হাজার ৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং অবিতর্কিত বকেয়া ছিল ৩৩৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাই মাসে বকেয়া থেকে আদায় হয়েছে মাত্র ৪ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর অঞ্চলটির এক কর্মকর্তা বলেন, এ অঞ্চলে লক্ষ্যমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কর অঞ্চল-৪ থেকে প্রায় ৮০ হাজার করদাতাকে বিভিন্ন কর অঞ্চলে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ঠিকাদারসহ বিভিন্ন সেবা ও খাতের করদাতারাও রয়েছেন। অর্থাৎ এসব করদাতার টিআইএন অন্য কর অঞ্চলে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে নতুন করে প্রায় ৪০ হাজার টিআইএন এ অঞ্চলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এদিকে জুলাইয়ে ঢাকার অন্যান্য কর অঞ্চলেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায়ে ঘাটতি দেখা গেছে। কর অঞ্চল-১ জুলাইয়ে ৯৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় করেছে ৫৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ অঞ্চলে আদায় হয়েছিল ৪৩১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।
কর অঞ্চল-২-এর জুলাই মাসের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬৮ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের জুলাইয়ে এ অঞ্চলে আদায় হয়েছিল ৪৬ কোটি ৯ লাখ টাকা।
কর অঞ্চল-৩ জুলাইয়ে ১০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় করেছে ৫৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ অঞ্চলের আদায় ৩৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বেশি।
কর অঞ্চল-৫ জুলাইয়ে ৯৮ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় করেছে ৭৯ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ অঞ্চলে আদায় হয়েছিল ৬৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
কর অঞ্চল-৬ জুলাইয়ে ১১০ কোটি ৪০ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় করেছে ৩২ কোটি ৩ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
অন্যদিকে কর অঞ্চল-৭ জুলাইয়ে ৬১ কোটি ২০ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় করেছে ২৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ অঞ্চলে আদায় হয়েছিল ২৭ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
চলতি অর্থবছরের শুরুতেই আয়কর খাতে এমন ঘাটতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কর অঞ্চলগুলোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, করদাতা স্থানান্তর এবং বকেয়া আদায়ের সক্ষমতার বিষয়গুলো রাজস্ব আহরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের নেতৃত্বে চলতি অর্থবছরের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্ট প্রায় শেষ হলেও জুলাইয়ের রাজস্ব আদায়ের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গত ২৭ আগস্ট জুলাই মাসের রাজস্ব সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট অনুবিভাগ তাদের রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

