নিষ্পত্তি হওয়া আয়কর মামলায় নতুন করে আদেশপত্র ও কর নির্ধারণী আদেশ তৈরি করে সরকারের ১৪৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৬ হাজার ৫৫৩ টাকা রাজস্ব ক্ষতির ঘটনায় উপকর কমিশনার লিংকন রায়কে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের আদেশে তাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪(৩)(ঘ) অনুযায়ী গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
লিংকন রায় বর্তমানে উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিট, ঢাকায় কর্মরত ছিলেন এবং বিভাগীয় কার্যধারা চলাকালে সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় ছিলেন। এর আগে তিনি কর অঞ্চল-৫, ঢাকার সার্কেল-৯০ (কোম্পানি)-এর উপকর কমিশনার হিসেবে ১৪ আগস্ট ২০২২ থেকে ২৭ আগস্ট ২০২৩ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
বিভাগীয় মামলার নথি অনুযায়ী, ওই সময়ে ধামশুর ইকোনমিক জোন লিমিটেডের ই-টিআইএন ৩৪০৮৯৭৬৯৯৪২০-এর ২০২০-২০২১ ও ২০২১-২০২২ করবর্ষের নিষ্পত্তিকৃত আয়কর মামলায় নতুন আইটি-৩৯ আদেশপত্র এবং আইটি-৮৮ কর নির্ধারণী আদেশ সৃষ্টি করা হয়। এর মাধ্যমে নতুন করে কর দাবি সৃষ্টি করে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতির কারণ হওয়ার অভিযোগ ওঠে লিংকন রায়ের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা নম্বর ০৭/২০২৫ দায়ের করা হয়। গত ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তাকে ব্যক্তিগত শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর আপিল অঞ্চল-২, ঢাকার কর কমিশনার মুন্সী হারুন রশিদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তদন্ত শেষে লিংকন রায়ের বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেওয়া হয়। এরপর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিধিমালা অনুযায়ী দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। গত ১১ মে ২০২৬ জারি করা ওই নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য তাকে সাত কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি জবাব দাখিল করেন।
তবে তার জবাব পর্যালোচনার পরও কর্তৃপক্ষ বরখাস্তের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। বিধিমালার বিধি ৭(১০) এবং সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শের জন্য পাঠানো হয়। কমিশনও লিংকন রায়কে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে।
এরপর রাষ্ট্রপতির সম্মতি গ্রহণের পর চূড়ান্ত আদেশ জারি করা হয়। এতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪(৩)(ঘ) অনুযায়ী গুরুদণ্ড হিসেবে লিংকন রায়কে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
লিংকন রায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান ও অভিযানেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। ২০২০-২০২১ ও ২০২১-২০২২ করবর্ষের ধামশুর ইকোনমিক জোন লিমিটেডের আয়কর নথিতে ১৪৬ কোটি টাকার বেশি কর দাবির তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী সময়ে নথি ও কর নির্ধারণী আদেশ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে বিষয়টি তদন্তের আওতায় আসে।
একই ঘটনায় কর অঞ্চল-৫-এর সাবেক কর কমিশনার আবু সাঈদ মো. মুস্তাক, অতিরিক্ত কর কমিশনার গোলাম কবীর এবং উপকর কমিশনার লিংকন রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা অনুমোদনের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছিল।

