NBR News & Views

গ্রামীণ কল্যাণ এনবিআরকে রাজস্ব বঞ্চিত করার চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি : হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
গ্রামীণ কল্যাণ এনবিআরকে রাজস্ব বঞ্চিত করার চেষ্টার ত্রুটি রাখেনি : হাইকোর্ট

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) ন্যায্য রাজস্ব প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করতে কোনো চেষ্টারই ত্রুটি রাখেনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণ—এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকাণ্ডকে ‘কর ফাঁকি দেওয়ার একটি ধ্রুপদি উদাহরণ’ বলেও মন্তব্য করেছেন আদালত।

গ্রামীণ কল্যাণের কাছে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা আয়কর আদায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি রিট আবেদনের পূর্ণাঙ্গ রায়ে এসব পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টির পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

রায়ে আদালত বলেন, আবেদনকারী একটি নিষ্পত্তি হয়ে যাওয়া বিষয়কে দীর্ঘায়িত করে কর ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিষয়টি ভিন্নভাবে দেখা সম্ভব ছিল। কিন্তু আবেদনকারী দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি ঝুলিয়ে রেখে প্রতিপক্ষকে তার প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করার জন্য কোনো চেষ্টারই ত্রুটি রাখেনি।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ করবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য আরোপিত ৬৬৬ কোটি টাকা আয়করের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণ দুটি রিট আবেদন করেছিল। অথচ একই প্রতিষ্ঠান ২০১৭-২০১৯ করবর্ষের জন্য একই ধরনের আয়কর পরিশোধ করেছে। পরবর্তী সময়ে ওই আয়করের বৈধতা ২০১৯ সালের ৩৬৩ নম্বর আয়কর রেফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে চ্যালেঞ্জ করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।

এ প্রসঙ্গে রায়ে আদালত বলেন, আবেদনকারী নিজের অবস্থানের বিপরীতে গিয়ে ক্রমাগত একই বিষয় নিয়ে কথা বলে চলেছে এবং আদালতের আদেশের প্রতি চরম ঔদ্ধত্য প্রদর্শনে মরিয়া হয়ে উঠেছে, যা প্রকারান্তরে আদালতের আদেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের শামিল।

এর আগে আয়কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। পরবর্তী সময়ে সোমবার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

পূর্ণাঙ্গ রায়ে এনবিআরসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আইন অনুযায়ী এবং যথাসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে বকেয়া কর আদায়ের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় প্রকাশের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর তাঁরা আপিল করবেন।