রাজধানীর গুলশানে টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের অননুমোদিত ওয়্যারহাউসে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত মদ ও বিয়ার মজুতের তথ্য পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি) এবং এসআরবি-১-এর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল। অভিযানের পর প্রতিষ্ঠানটির চারটি ওয়্যারহাউস সিলগালা করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
২ অক্টোবর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিএনসির নেতৃত্বে সিআইআইডি ও এসআরবি-১-এর সমন্বয়ে গঠিত দল গুলশানে টস বন্ড প্রাইভেট লিমিটেডের বন্ডেড ওয়্যারহাউসে অভিযান পরিচালনা করে। রাত সাড়ে ১০টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলা অভিযানে প্রতিষ্ঠানের রেজিস্টার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) অনুমোদিত সফটওয়্যার এবং ওয়্যারহাউসে সংরক্ষিত পণ্যের সরেজমিন তথ্য যাচাই করা হয়।
অভিযানে প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যারে Exbond দেখানো হলেও বাস্তবে ওয়্যারহাউসে থাকা ১৪৪ ক্যান বিয়ার, ১২ বোতল হুইস্কি ও ৬ বোতল Nemiroff পাওয়া যায়। অর্থাৎ সফটওয়্যারে এসব পণ্য প্রতিষ্ঠান থেকে ছাড় হয়েছে বলে দেখানো হলেও সরেজমিনে সেগুলো প্রতিষ্ঠানটির হেফাজতেই পাওয়া যায়।
এ ছাড়া আমদানি করা ২ হাজার ২৫০ কার্টন Heineken Beer প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার সিস্টেমে গত ৩ সেপ্টেম্বর Inbound হিসেবে অন্তর্ভুক্ত দেখানো হয়। তবে যৌথ দলের সরেজমিন যাচাইয়ে ওই পণ্যগুলো প্রতিষ্ঠানের ওয়্যারহাউসে পাওয়া যায়নি।
অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটির মোট চারটি ফ্লোরের মধ্যে দুটি ফ্লোরের কাস্টমস অনুমোদন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য বা অনুমোদন পাওয়া যায়নি। ফলে অনুমোদিত ওয়্যারহাউসের বাইরে পণ্য সংরক্ষণ এবং সফটওয়্যারে প্রদর্শিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তব মজুতের সামঞ্জস্য নিয়ে অসঙ্গতি শনাক্ত হয়।
এর আগে সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত বা ঘোষিত ওয়্যারহাউস দুটি থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও মোট চারটি ওয়্যারহাউসে পণ্য মজুতের বিষয়টি সামনে আসে। এর মধ্যে দুটি ওয়্যারহাউস অনুমোদনের বাইরে রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
অননুমোদিত ওয়্যারহাউসে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা শুল্কমুক্ত পণ্য স্থানান্তর বা অপসারণ রোধ এবং বিষয়টি অধিকতর যাচাইয়ের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট চারটি ওয়্যারহাউসই সিলগালা করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযানে পাওয়া পণ্য, নথিপত্র ও সফটওয়্যারে সংরক্ষিত তথ্য অধিকতর যাচাই করা হচ্ছে। অনিয়মের প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

