হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাই দুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজের সিটের নিচ থেকে ৮০ পিস স্বর্ণবার উদ্ধার করেছে কাস্টমস হাউস, ঢাকা। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণবারগুলোর মোট ওজন ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম বা প্রায় ৯ দশমিক ৩৩ কেজি। এসব স্বর্ণবারের আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, ২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টা ৩৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস হাউস, ঢাকা জানতে পারে, ওই দিন রাত ৯টা ২০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করা ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড-৫২৩ ফ্লাইটের মাধ্যমে স্বর্ণ চোরাচালান করা হচ্ছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে কর্মরত কাস্টমস হাউস, ঢাকার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উড়োজাহাজটির অভ্যন্তরে বিশেষ তল্লাশি বা রামেজিংয়ের জন্য উপস্থিত হন। সেখানে গিয়ে তারা উড়োজাহাজটি যাত্রীবিহীন অবস্থায় দেখতে পান। পরে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উপস্থিতিতে রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটে ফ্লাই দুবাইয়ের এফজেড-৫২৩ ফ্লাইটটিতে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে উড়োজাহাজটির ১৯এ নম্বর আসনের নিচে কালো স্কচটেপে মোড়ানো কয়েকটি বস্তু পাওয়া যায়। পরে এসব বস্তু কাস্টমস হলে নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার উপস্থিতিতে ইনভেন্টরি করা হয়। ইনভেন্টরির সময় কালো স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় ৮০ পিস স্বর্ণবার পাওয়া যায়। প্রতিটি স্বর্ণবারের ওজন ১১৬ দশমিক ৬৪ গ্রাম হিসেবে মোট ওজন দাঁড়ায় ৯ হাজার ৩৩১ গ্রাম।
কাস্টমস হাউস জানায়, উদ্ধার করা স্বর্ণবারগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজের সিটের নিচে কালো স্কচটেপে অত্যন্ত সুকৌশলে লুকিয়ে এসব স্বর্ণবার সরকারি ধার্যকৃত শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে দেশে আনা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরবর্তীতে এসব স্বর্ণ বিমানবন্দর সীমানার বাইরে পাচারের আশঙ্কা ছিল।
কাস্টমস হাউস, ঢাকা এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে স্বর্ণ চোরাচালানের এ প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণবারগুলো অধিক মূল্যবান হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে জমা করা হয়েছে।
অখালাসকৃত বা চোরাচালানের অভিযোগে আটক ও বাজেয়াপ্তকৃত পণ্যের নিষ্পত্তি পদ্ধতি সংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী মূল্যবান ধাতু হিসেবে স্বর্ণবারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার নম্বর-০৭, তারিখ ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, দেশীয় অর্থনীতি রক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টমস হাউস, ঢাকা সর্বদা তৎপর রয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ ধরনের নজরদারি ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

