NBR News & Views

সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের আদেশ বহালের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের আদেশ বহালের দাবি

দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোকে সচল রাখতে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জারি করা আদেশ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন এ খাতে কর্মরত শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের দাবি, আদেশ বাতিল হলে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো আরও সংকটে পড়বে, কর্মসংস্থান কমবে এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণখেলাপি বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। স্পিনিং মিল শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সালমা গ্রুপের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার আজহার আলী।

তিনি বলেন, ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের ফলে দেশীয় টেক্সটাইল ও স্পিনিং খাতে স্থানীয় সুতার চাহিদা বাড়বে। এতে বন্ধ ও আংশিক বন্ধ মিলগুলো পুনরায় চালুর সুযোগ তৈরি হবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আজহার আলী বলেন, বর্তমানে দেশে ৫৩০টি স্পিনিং মিল রয়েছে। ২০১৯ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কারণে ১১৭টি মিল সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে ৪১৩টি মিল পূর্ণ বা আংশিকভাবে চালু রয়েছে। চালু মিলগুলোর ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা উৎপাদনের বার্ষিক সক্ষমতা প্রায় ১৩০ কোটি কেজি।

তিনি জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১০ থেকে ৩০ কাউন্ট কটন সুতা আমদানির পরিমাণ ছিল ২১ দশমিক ৬ কোটি কেজি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪৬ কোটি কেজিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ দুই অর্থবছরে এ ধরনের সুতা আমদানি প্রায় ১১৩ শতাংশ বেড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের সুতা ও প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ রয়েছে। ফলে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে প্রকৃত রপ্তানিকারকদের আমদানি কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার কথা নয়। বরং এ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ করা সম্ভব।

শিল্পে গ্যাস সরবরাহের বিষয়েও দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলে শুধু উৎপাদন নয়, শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থান ও পরিবারের জীবিকাও সুরক্ষিত হবে। প্রাথমিক টেক্সটাইল খাতে প্রায় ৩২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে এবং সরাসরি প্রায় ৩০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পরোক্ষভাবে প্রায় ১ কোটি মানুষ এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।

সংবাদ সম্মেলনে চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো—এনবিআরের জারি করা আদেশ বহাল রাখা, শিল্পে বর্তমান গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি অব্যাহত রেখে প্রয়োজনীয় চাপ ও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা, শিল্প-বাংকিং খাত-কর্মসংস্থান ও রপ্তানির দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে সমন্বিত টেক্সটাইল-তৈরি পোশাক নীতি গ্রহণ এবং রিসাইকেল ও টেকসই পণ্যের ব্যবহার ও উৎপাদন বাড়াতে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে মোশাররফ গ্রুপের পরিচালক শাহিনুল হক, গ্রিনটেক্স লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক রুহুল আমিন, ইউটা স্পিনিং মিলের উপ মহাব্যবস্থাপক আব্দুস সালিক এবং বেঙ্গল এফএনকে গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক এনামুল হকসহ স্পিনিং খাতে কর্মরত শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।