ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কর্মকর্তা চৌধুরী গোলাম হাসনাইনকে জড়িয়ে প্রকাশিত সংবাদে ঘুষ লেনদেন, অনিয়ম, সিন্ডিকেট পরিচালনা, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার মতো যেসব গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের পক্ষে গ্রহণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন না করে একজন সরকারি কর্মকর্তাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ী ও কথিত সিন্ডিকেটের সদস্যদের সঙ্গে চৌধুরী গোলাম হাসনাইনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তোলা হয়েছে। কিন্তু এসব অভিযোগের সমর্থনে সুনির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেনের তথ্য, নির্ভরযোগ্য নথি কিংবা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে প্রমাণহীন এসব অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা অনুচিত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে।
প্রতিবেদনে ঢাকা উত্তর কাস্টমস বন্ড কমিশনারেটের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, সদ্য বিদায়ী অতিরিক্ত কমিশনার দেলোয়ার হোসেন, কমিশনারের ব্যক্তিগত সহকারী মজনু মিয়াসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যথাযথভাবে গ্রহণ ও যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে তাঁর বক্তব্য গ্রহণ, প্রাসঙ্গিক নথি পর্যালোচনা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি।
চৌধুরী গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে কথিত সিন্ডিকেট পরিচালনা, অসাধু ব্যবসায়ীদের অবৈধ সুবিধা প্রদান এবং ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট ও যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কাউকে অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হিসেবে উপস্থাপন করা গ্রহণযোগ্য নয়। একইভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তোলা হলেও সম্পদের প্রকৃত পরিমাণ, আয়ের উৎস কিংবা অভিযোগের সমর্থনে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি প্রকাশ করা হয়নি।
দুর্নীতি দমন কমিশনের কথিত নজরদারি বা তদন্তের বিষয়েও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা যাচাইযোগ্য নথি ছাড়া কোনো দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়। কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করা যেতে পারে। কিন্তু তদন্তের ফলাফল কিংবা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ ছাড়া অভিযোগকে অপরাধের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়সংগত নয়।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, সংবাদ প্রকাশের পর চৌধুরী গোলাম হাসনাইন সম্পাদককে ফোন করে হুমকি ও দুর্ব্যবহার করেছেন। এ অভিযোগও প্রমাণসাপেক্ষ। অভিযোগের সমর্থনে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন না করে এমন বক্তব্যকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়। ঘটনার প্রকৃত সত্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও সঠিক তথ্য প্রকাশের দাবি
চৌধুরী গোলাম হাসনাইনকে ঘিরে প্রকাশিত সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ পর্যালোচনা ও যথাযথ তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের দাবি জানানো হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ না থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মান, পেশাগত সুনাম ও আইনগত অধিকার সুরক্ষিত রাখা জরুরি।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো ভুল, অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থাকলে তা সংশোধন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রত্যাহার করে প্রকৃত তথ্য পাঠকের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে চৌধুরী গোলাম হাসনাইনের বক্তব্য যথাযথভাবে প্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হচ্ছে, যাতে পাঠক সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাঁর অবস্থান জানতে পারেন।
সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা, কাস্টমস বন্ড ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ধরনের সাংবাদিকতা হতে হবে তথ্যনির্ভর, নিরপেক্ষ ও যাচাইযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা এবং সেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। তাই প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন।
চৌধুরী গোলাম হাসনাইনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অপ্রমাণিত হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের প্রতি তথ্য যাচাই, সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশের আহ্বান জানানো হচ্ছে। নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশ এবং প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমেই এ বিষয়ে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন সম্ভব।

