NBR News & Views

শপিং জোন বিডিতে ৮২ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য, মালিকের দাবি—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

নিজস্ব প্রতিবেদক
শপিং জোন বিডিতে ৮২ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকির তথ্য, মালিকের দাবি—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি

রাজধানীর শ্যামলীতে পোশাক বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান শপিং জোন বিডির বিরুদ্ধে ৮২ লাখ ৩ হাজার ৫ টাকা মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকির তথ্য উদঘাটনের কথা জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেনের দাবি, ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক নোটিশ তারা পাননি। তাঁর অভিযোগ, তদন্ত ও যাচাই-বাছাই শেষ হওয়ার আগেই সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এনবিআরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকা পশ্চিম কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের একটি দল শ্যামলীর ১২/১/৪, রোড-২ এলাকায় অবস্থিত শপিং জোন বিডিতে আকস্মিক অভিযান চালায়। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব শোরুমের পাশাপাশি অনলাইনেও পোশাক বিক্রি করে থাকে।

এনবিআর জানায়, অভিযানের সময় মূসক ফাঁকির আলামত পাওয়ায় অধিকতর যাচাইয়ের জন্য মূসক-১২.৩-এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সিপিইউসহ বিভিন্ন ব্যবসায়িক দলিল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা বিক্রয়সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে ১০ কোটি ৯৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪০০ টাকার বিক্রয় তথ্য পাওয়া যায়। এসব বিক্রয়ের বিপরীতে পরিহারকৃত মূসকের পরিমাণ ৮২ লাখ ৩ হাজার ৫ টাকা বলে প্রাথমিকভাবে উদঘাটন করা হয়েছে।

এনবিআর আরও জানিয়েছে, জব্দ করা দলিলাদি অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অর্থাৎ এনবিআরের প্রকাশিত তথ্যেও বিষয়টি অধিকতর যাচাই ও পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের পর্যায়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, শপিং জোন বিডির চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানে এসে পরিদর্শন করেছেন এবং একটি কম্পিউটারসহ প্রয়োজনীয় কিছু নথি নিয়ে গেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তদন্তে সহযোগিতা করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, পরদিন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে তাদের জানানো হয়, কাগজপত্র ও হিসাব-নিকাশ যাচাই করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে অথবা প্রয়োজন হলে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, এখন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে ভ্যাট ফাঁকির কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক নোটিশ পৌঁছায়নি।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো প্রতিষ্ঠানকে জনসমক্ষে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করা ন্যায়সংগত নয়। অভিযোগ এবং প্রমাণিত অপরাধ এক বিষয় নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের দাবি, একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হলে শুধু উদ্যোক্তা নয়, এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাঁদের পরিবারের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। তাই কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিয়ে আইন অনুযায়ী তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাঁদের হিসাব, বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করতে তারা প্রস্তুত। তদন্তে কোনো ধরনের বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্য তাঁদের নেই; বরং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশের সুযোগ চান।

এ বিষয়ে এনবিআরের বক্তব্য অনুযায়ী, জব্দ করা নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ৮২ লাখ ৩ হাজার ৫ টাকা ভ্যাট পরিহারের তথ্য পাওয়া গেছে এবং নথিপত্রের অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের বক্তব্য হলো—এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং তাঁরা নিজেদের হিসাব ও বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ চান।

ফলে শপিং জোন বিডির বিরুদ্ধে উত্থাপিত ভ্যাট ফাঁকির বিষয়টি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অধিকতর যাচাই-বাছাই ও পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।